কুমড়োর ভেতর মোবাইল ঢুকিয়ে পাচারের চেষ্টা - The News Lion

কুমড়োর ভেতর মোবাইল ঢুকিয়ে পাচারের চেষ্টা




দি নিউজ লায়ন ;  তারকাটার বেড়ার পাশেই সবজির জমি। সেখানে  কাজ করছে একজন চাষী। কিন্তু তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে সীমান্তের ওপারে পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওই ব্যক্তি। রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় মিষ্টি কুমড়ার ভিতরে মোবাইল মজুত করে সীমান্তের ওপারের পাচার করার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্ত ওই পাচারকারী। কিন্তু সেই চক্র ফাঁস করল বিএসএফ। ঘটনাচক্রে একজন পাচারকারী এলাকা থেকে পালিয়ে গেলেও,  হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় অপর আরেকজন পাচারকারী। 


তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বড় সাইজের একটি মিষ্টি কুমড়া । সেই সবজি কাটার পর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ১১ টি নামিদামি কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট।  যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা বলেও জানিয়েছে বিএসএফ। এরকমভাবে আরো কত মিষ্টি কুমড়ার মধ্যে মোবাইল মজুত করে বাইরে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের, তা নিয়ে অবশ্য তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফের ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কর্তারা। 


পাশাপাশি পাচারকারী এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইল গুলি কালিয়াচক থানার হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম অসীম মণ্ডল। তার বাড়ি কালিয়াচক থানার হাদিনগর এলাকায় । মঙ্গলবার বিকেলে তাকে কালিয়াচক থানার চরিঅনন্তপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেই গ্রেফতার করে বিএসএফের ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কর্তব্যরত জাওয়ানেরা। 


তাদের জেরায় অসংলগ্ন কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে অভিযুক্তের কাছে মজুত মিষ্টি কুমড়া ফালি কেটে উদ্ধার হয় ওই চোরাই মোবাইলগুলি। আর এতেই হতবাক হয়ে গিয়েছে  অভিযানকারী বিএসএফের জওয়ানেরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চরিঅনন্তপুর সীমান্ত এলাকার একটি সবজির জমিতেই ওই ব্যক্তি চাষের ভঙ্গিমায় মিষ্টি কুমড়াগুলি-মজুত করেছিল। কিন্তু তার চালচলন দেখেই বিএসএফের সন্দেহ হয়।


 এরপরই তার সাথে কথাবার্তা বলতেই অসংলগ্ন কিছু বিষয় বেরিয়ে আসে। তখনই সন্দেহ হয়। এরপর মিষ্টি কুমড়ার ফালি করতেই প্লাস্টিকে মোড়ানো এগারটি নামিদামি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা আরও একজন পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তবে আর কোন মিষ্টি কুমড়ার মধ্যে এরকম চোরাই মোবাইল উদ্ধার হয় নি।


 তবে এটা চোরাকারবারীদের নতুন একটি পরিকল্পনা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। মিষ্টি কুমড়া গুলির মাথার উপরে বড় সাইজ করে কেটে, সেখানে প্লাস্টিকে মোড়ানো মোবাইলগুলো ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এরপর মাথাটি মজবুত ভাবে আঠালো জাতীয় পদার্থ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিলো। তবে চোরাই মোবাইল গুলি কোথায় পাচার করা হতো, তা নিয়ে অবশ্য তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ এবং বিএসএফের কর্তারা।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.